সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ , ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎জামালগঞ্জে রাঈদ মাহমুদ স্মৃতি মেধাবৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তিপ্রাপ্তদের পুরস্কার বিতরণ কঠিন হচ্ছে মার্কিন ভিসা, বন্ড তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ গাছ কাটার জরিমানা লাখ টাকা, পেরেক মারলে ২০ হাজার বিদেশ-ফেরত নারী ও শিশু অভিবাসীর অধিকার বিষয়ে সচেতনতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত ভোটাররা জানে না ‘গণভোট’ কি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : নাছির চৌধুরী ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ধীরগতি, ৩০০ প্রকল্পে এখনও শুরু হয়নি কাজ ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: জেলা প্রশাসক পুত্রের মুক্তি দাবিতে পিতার সংবাদ সম্মেলন শ্রেণিকক্ষে তালা দিলো বিএনপি নেতার ছেলে ডিলারের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কৃষকদলের আবেদন বাঁধের কাজে বিলম্বে উদ্বেগ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামালগঞ্জে রাঈদ মাহমুদ স্মৃতি মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই : ট্রাম্প সিলেট নয়, বগুড়া থেকে শুরু হতে পারে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম ভূমিকম্পে কাঁপলো সিলেট প্রার্থীদের হলফনামায় দুদকের নজর রয়েছে : দুদক চেয়ারম্যান নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাতকে মানববন্ধন শান্তিগঞ্জে উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ লাফার্জ হোলসিম কোম্পানির শব্দদূষণ কনভেয়ার বেল্টের শব্দে অতিষ্ঠ ১০ গ্রামের মানুষ

যে কথা যায় না ভুলা, মোঃ শাহাদত হোসেন

  • আপলোড সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৯:১৮:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৯:১৮:২৩ পূর্বাহ্ন
যে কথা যায় না ভুলা, মোঃ শাহাদত হোসেন
মানুষ এক বিচিত্র প্রাণী। জীবন ও জীবিকার জন্য তাকে দেশ হতে দেশান্তরে, স্থান হতে স্থানান্তরে ঘুরে বেড়াতে হয়, অভিগমন করতে হয়। পুরাতনকে ছেড়ে দিয়ে নতুনকে আঁকড়ে ধরতে হয়। অতীতকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে চলাই মানুষের স্বভাব। তাই সে যেখানেই যায়, সেটাকেই নিজের আপন ভুবন করে নেয়। কিন্তু আসলেই কি মানুষ অতীতকে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে? পারে না। তার এগিয়ে চলার পথে অতীত তাকে নিয়ত সঙ্গ দেয়। পিছনের আনন্দ-বেদনা তাকে প্রতিনিয়ত আরো বড়ো হতে সাহায্য করে। এটাই জীবন, এটাই বাস্তবতা। আমি আমার এ ক্ষুদ্র জীবনে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকার একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, নওগাঁর বদলগাছি সরকারি কলেজে পেশাগত জীবন কাটিয়ে বর্তমানে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে কর্মরত আছি। নানা বৈচিত্রময় জায়গায় বসবাস করলেও সুনামগঞ্জের সময়টা আমার জীবনের সেরা সময়। কলেজ ছাড়াও নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে জড়িত থেকে প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করেছি আমরা। সুনামগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জ বদলি হওয়ার পর অর্ধযুগ পার হয়ে গেল। এ ছয় বছরে সুনামগঞ্জ শহরে গিয়েছি মাত্র তিনবার, তবে নিজ গ্রামের বাড়িতে গিয়েছি বহুবার। যে কোন বদলি বেদনাদায়ক হলেও, আমার এ বদলি আমার জন্য শাপে বর হয়েছে। একদিকে সুনামগঞ্জের চেয়ে কম সময়ে নিজের গ্রামের বাড়িতে যেতে পারছি, অন্যদিকে ছেলে-মেয়েদেরকে তুলনামূলকভাবে ভালো স্কুল-কলেজে পড়াতে পারছি। কিশোরগঞ্জে বসবাসের আরো কিছু সুবিধা আছে। যেমন- চিকিৎসা সেবা সুনামগঞ্জের চেয়ে ভালো, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সুলভে পাওয়া যায়, ঢাকার সাথে দূরত্ব কম। সর্বোপরি সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের চেয়ে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অবকাঠামো ও কর্মপরিবেশ অনেক অনেক উন্নত। কিন্তু এতোসব সুবিধা সত্ত্বেও মন পড়ে থাকে সুনামগঞ্জে। তাই স্বশরীরে যেতে না পারলেও আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত থাকি সুনামগঞ্জের সাথে, সুনামগঞ্জের মানুষের সাথে। আর এসব স¤পৃক্ততার সময় বার বার পিছনের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। জীবনের সোনালী সময়টাতো কাটিয়েছি সুনামগঞ্জেই। অসংখ্য স্মৃতি ভিড় করে হৃদয়ের গহিনে। সেসব স্মৃতি নিয়ে অন্য একদিন লিখব। ব্যস্ততার মাঝেও আজ বলতে চাই দৈনিক সুনামকণ্ঠ ও এর সম্পাদক বিজনদাকে নিয়ে কিছু কথা। লেখালেখির অভ্যাস থাকার কারণেই দৈনিক সুনামকণ্ঠের স¤পাদক বিজন সেনের সাথে আমার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। কিন্তু সেই ঘনিষ্ঠতা ছাপিয়ে আমরা একসময় হয়ে উঠি সহযোদ্ধা। সহযোদ্ধা বলছি এ কারণে যে, সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ জাতীয়করণের বিষয়ে তাঁর সহযোগিতা ছিল নিরন্তর। প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বাইরে কলেজটি জাতীয়করণের কাজে আরো অনেকের সাথে সাথে দাদাও ছিলেন ভীষণ আগ্রহী। শুধু তাই নয়, কলেজটিকে ডিগ্রী পর্যায়ে উন্নীত করার ব্যাপারে তাঁর অবদান ভুলবার নয়। সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ডিগ্রী কোর্স চালুর জন্য প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ এম মুহিদ মিয়া। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি সে কাজ সমাপ্ত করে যেতে পারেননি। মুহিদ স্যার অবসরে গেলেও আমাকে ও বিজনদাকে এ কাজে উৎসাহ দিতেন। পরবর্তী অধ্যক্ষ প্রফেসর নেসার আহমদও সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ডিগ্রী কোর্স চালুর ব্যাপারে উদ্যোগী হন। এ কাজে তিনি জনাব মোহাম্মদ মুস্তানসার বিল্লাহ ও আমাকে দায়িত্ব দেন। এসময় আমাদেরকে অপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন বিজনদা। সেসময় সুনামকণ্ঠের পাঠক ফোরাম নামে একটি শক্তিশালী সংগঠন ছিল। শহরের নানা ইতিবাচক কাজে এ সংগঠনের ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল। সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজেও এ সংগঠনের শাখা ছিল। বিজনদা এ সংগঠনকে নিয়ে ডিগ্রী কোর্স চালুর জন্য শহরে মিছিল করেছেন, মানববন্ধন করেছেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রচার করিয়েছেন। আমি ও বিল্লাহ স্যার ফাইল নিয়ে ঢাকায় দৌড়াদৌড়ি করেছি। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার ফলে ২০১১ সালে সুনামগঞ্জ সরকরি মহিলা কলেজে ডিগ্রী কোর্স চালু করা সম্ভব হয়। এরপর আমরা উক্ত কলেজে অনার্স কোর্স চালুরও উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু বিল্লাহ স্যারের সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে বদলি এবং আমার প্রথমে নওগাঁ ও পরে কিশোরগঞ্জে বদলি হওয়ার ফলে এ কাজে আর কোন অগ্রগতি নেই বলেই জানি। অথচ শহরে আরেকটি অনার্স কলেজের চাহিদা রয়েছে। বিশেষত নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য এটি জরুরিও। সংবাদপত্রকে আমরা সব সময়ই সমাজ বদলের হাতিয়ার হিসেবে জানি। তবে প্রান্তিক জেলার একটি সংবাদপত্র ও এর সম্পাদক সরাসরি স¤পৃক্ত থেকে সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন- এটা খুব একটা বেশি দেখা যায় না। তাই দৈনিক সুনামকণ্ঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লিখতে বসে সে কথাই বেশি মনে পড়ছে। আজ খুব ভালো লাগে, যখন শুনি সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে শত শত ছাত্রী ডিগ্রীতে পড়ছে। এ কলেজে ডিগ্রী কোর্স চালু না হলে অনেক মেয়ের শিক্ষা জীবন এইচএসসিতেই আটকে যেত, শেষ হয়ে যেত। সেজন্য সেইসময় সুনামকণ্ঠ পাঠক ফোরামের ব্যানারে যেসব ছাত্রী এগিয়ে এসেছিল, তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাই। এছাড়া সুনামকণ্ঠ পাঠক ফোরাম নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করত। বাংলা নববর্ষ উদযাপন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ত্রাণ বিতরণ প্রভৃতি ছিল অন্যতম। জানিনা এখনো সুনামকণ্ঠ পাঠক ফোরাম আছে কিনা। ওদের ইতিবাচক কাজগুলো এখনো আমার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে। আমি প্রায়ই শিক্ষা ও হাওর বিষয়ে লেখা দিতাম। যা সুনামকণ্ঠ আন্তরিকতার সাথে ছাপাত। সেই দিনগুলো খুব মিস করি। আশা করছি, খুব শীঘ্রই সুনামগঞ্জ ফিরে আসবো। সুনামকণ্ঠের সাথে স্মৃতিগুলো আরো বড় করতে চাই, আরো অর্থবহ করতে চাই। দৈনিক সুনামকন্ঠ বেঁচে থাকুক সুনামগঞ্জবাসীর হৃদয়ে ও মননে। [লেখক- মোঃ শাহাদত হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
গাছ কাটার জরিমানা লাখ টাকা, পেরেক মারলে ২০ হাজার

গাছ কাটার জরিমানা লাখ টাকা, পেরেক মারলে ২০ হাজার